Category Archives: ঈমান ও আমল

রোযার দিনে হায়েয বা পিরিয়ড শুরু বা বন্ধ হলে রোযার কী হুকুম?

প্রশ্ন: ১. রোযার দিনে হায়েয বা পিরিয়ড_শুরু হলে রোযার কী হুকুম? ২. তদ্রুপ রোযার দিনে হায়েয বা পিরিয়ড_বন্ধ_হলে রোযার কী হুকুম? জনৈকা….. উত্তর: وبالله سبحانه التوفيق ১. রোযার মধ্যে যদি হায়েয বা পিরিয়ড শুরু হয়; এমন কি যদি মাত্র সামান্য বেলা থাকতেও শুরু হয় তবুও সে রোযার ক্বাযা করতে হবে। এইরূপ অবস্থা হলে নফল রোযারও… Read More »

রাতে বিছানায় গিয়ে সুরা ইখলাস ফালাক নাস পড়ে গায়ে হাত বুলান। এই আমল সাবেত আছে কি না ?

প্রশ্ন: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে_বিছানায়_গিয়ে #সুরা_ইখলাস #ফালাক #নাস পড়ে গায়ে হাত বুলাতেন। এই আমল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাবেত আছে কি না ? ইবনে আশরাফ উত্তর:وبالله سبحانه التوفيق জী, আছে। আয়িশা রাযি. বলেন, প্রতি রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিছানায় যাওয়ার প্রাক্কালে সূরা ইখ্‌লাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে দু’হাত… Read More »

নামাজ বাদ তিন কুল পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে মোছা সাবেত আছে কি না?

প্রশ্ন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ_বাদ তিন_কুল_পড়ে_হাতে_ফুঁ_দিয়ে_শরীরে_মোছা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাবেত আছে কি না? ইবনে আশরাফ উত্তর: وبالله سبحانه التوفيق পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায বাদ তিন কুল পড়া রসূল সল্লাল্লহু আলায়হি অসাল্লাম হতে সহীহ হাদীছে প্রমাণিত। হযরত আয়িশা রাযি. বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে রোগে ওফাত পান সেই রোগের সময়ে তিনি নিজ… Read More »

নামাযের কাফফারা কত দিতে হবে

প্রশ্ন: হুজুর ! আমার বাবা গত কাল মৃত্যু বরণ করেন।বিগত ১৫ দিন তিনি নামাজ পড়তে পারেন নি।এবং অসুস্থ থাকায় ৪ রোজা ও রখতে পারেন নি।ডায়বেটিস ছিল।দিনে ৩০/৪০ বার প্রসাব করতেন কাফরে।আার শেষ চার/ পাঁচ দিন সেন্স লেছ ছিলেন। ইসলামের দৃষ্টিতে #নামাযের_কাফফারা কত দিতে হবে একটু জানালে কৃতজ্ঞ হব। মুহা. আব্দুল কাবীর। উত্তর:وبالله سبحانه التوفيق যে… Read More »

যাকাত হিসাবের সহজ নমুনা

ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়া ও দুআ করা কি বৈধ ?

প্রশ্ন: ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়া ও দুআ করা কি বৈধ ? উত্তর: وبالله سبحانه التوفيق ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়া ও দুআ করায় কোন বাধা নাই। ইসলামের শুরু যুগে ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায নবীজী সল্লাল্লহু আলায়হি অসাল্লাম নিজে না পড়িয়ে অন্যকে পড়ানোর নির্দেশ দিতেন ঋণ বোঝা থেকে কঠোরতা ও অনুৎসাহিত করার… Read More »

ইস্তিখারা কি ? ইস্তিখারার নামায/সালাতুল ইস্তিখারা এর পদ্ধতি কি ?

আমাদের জীবনে এমন ঘটনা ঘটে যা আমরা চাই না কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার মধ্যেই আমাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে । আবার অনেক সময় এমন কিছু আশা করি যার মধ্যে হয়ত কোন অকল্যাণ ও ক্ষতি অপেক্ষা করছে । قال سبحانه وتعالى: {وَعَسَى أَن تَكْرَهُواْ شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَن تُحِبُّواْ شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ وَاللّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ… Read More »

মিরাজের ঘটনা কি ? শবে মিরাজের কোন আমল আছে কি না ? এবং আমাদের দেশে প্রতি বছর যেভাবে শবে মিরাজ পালন করা হয়, তার বিধান কি ?

وبالله سبحانه التوفيق মিরাজের ঘটনার আগের ধারাবাহিক ঘটনাগুলো ছিলো বিষাদের।  মিরাজের ঠিক আগে লাগাতার রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনে যেসব দুঃখ আসে: • তাঁর স্ত্রী খাদিজার (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ইন্তেকাল; যিনি ছিলেন ঘরে তাঁর সবচেয়ে বড়ো প্রেরণাদাতা। • তাঁর চাচা আবু তালিবের ইন্তেকাল; যিনি ছিলেন ঘরের বাইরে তাঁর সবচেয়ে বড়ো অভিভাবক, যিনি তাঁকে আগলে রাখতেন। • তায়েফের দিন; যা ছিলো রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনের সবচেয়ে দুর্বিষহ দিন। যেমন কুরবানী তেমন মেহেরবানী! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কষ্টের মধ্যে, তখন আল্লাহ তাঁকে তাঁর জীবনের অন্যতমগুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন প্রত্যক্ষ করান। তাঁকে এমন জায়গায় নিয়ে যান, যেখানে পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো মানুষইতোপূর্বে যায়নি। মি‘রাজের ঘটনা কখন সংঘটিত হয়েছিলো ? মূলত রাসুল সা.-এর মিরাজ নিয়ে কোনো মতানৈক্য নেই। এটি সুসাব্যস্ত একটি বিষয়। কিন্তু এটি কবে ঘটেছে, এ নিয়ে বিস্তর মতানৈক্য রয়েছে। কারও মতে হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে, কারও মতে তিন বছর পূর্বে, কারও মতে দেড় বছর পূর্বে, কারও মতে এক বছর পূর্বে, কারও মতে ছয় মাস পূর্বে।  অনুরূপ কোন মাসে হয়েছে, এ নিয়েও অনেক মতপাওয়া যায়।  কারও মতে রবিউল আওয়ালে,  কারও মতে রবিউল আখিরে, কারও মতে রজবে,  কারও মতে রমজানেআর কারও মতে শাওয়ালে।  এভাবে দিন বা তারিখ নিয়েও অনেক মত পাওয়া যায়। হাফিজ ইবনু হাজার আসকালানি রহ. বলেন : وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي وَقْتِ الْمِعْرَاجِ فَقِيلَ كَانَ قَبْلَ الْمَبْعَثِ وَهُوَ شَاذٌّ إِلَّا إِنْ حُمِلَ عَلَى أَنَّهُ وَقَعَ حِينَئِذٍ فِي الْمَنَامِ كَمَا تَقَدَّمَ وَذَهَبَ الْأَكْثَرُإِلَى أَنَّهُ كَانَ بَعْدَ الْمَبْعَثِ ثُمَّ اخْتَلَفُوا فَقِيلَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ بِسَنَةٍ قَالَه بن سعد وَغَيره وَبِه جزم النَّوَوِيّ وَبَالغ بن حَزْمٍ فَنَقَلَ الْإِجْمَاعَ فِيهِوَهُوَ مَرْدُودٌ فَإِنَّ فِي ذَلِكَ اخْتِلَافًا كَثِيرًا يَزِيدُ عَلَى عَشَرَةِ أَقْوَال مِنْهَا مَا حَكَاهُ بن الْجَوْزِيِّ أَنَّهُ كَانَ قَبْلَهَا بِثَمَانِيَةِ أَشْهُرٍ وَقِيلَ بِسِتَّةِأَشْهُرٍ وَحَكَى هَذَا الثَّانِيَ أَبُو الرَّبِيعِ بن سَالم وَحكى بن حَزْمٍ مُقْتَضَى الَّذِي قَبْلَهُ لِأَنَّهُ قَالَ كَانَ فِي رَجَبٍ سَنَةَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ مِنَالنُّبُوَّةِ وَقِيلَ بِأَحَدَ عَشَرَ شَهْرًا جَزَمَ بِهِ إِبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ حَيْثُ قَالَ كَانَ فِي رَبِيعٍ الْآخِرِ قبل الْهِجْرَة بِسنة وَرجحه بن الْمُنِيرِ فِيشَرْحِ السِّيرَةِ لِابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ وَقيل قبل الْهِجْرَة بِسنة وشهرين حَكَاهُ بن عَبْدِ الْبَرِّ وَقِيلَ قَبْلَهَا بِسَنَةٍ وَثَلَاثَةِ أَشْهُرٍ حَكَاهُ بن فَارِسٍوَقِيلَ بِسَنَةٍ وَخَمْسَةِ أَشْهُرٍ قَالَهُ السُّدِّيُّ وَأَخْرَجَهُ مِنْ طَرِيقِهِ الطَّبَرِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فَعَلَى هَذَا كَانَ فِي شَوَّالٍ أَوْ فِي رَمَضَانَ عَلَى إِلْغَاءِالْكَسْرَيْنِ مِنْهُ وَمِنْ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ وَبِهِ جَزَمَ الْوَاقِدِيُّ وَعَلَى ظَاهِرِهِ يَنْطَبِقُ مَا ذَكَرَهُ بن قُتَيْبَة وَحَكَاهُ بن عَبْدِ الْبَرِّ أَنَّهُ كَانَ قَبْلَهَا بِثَمَانِيَةَعَشَرَ شهرا وَعند بن سعد عَن بن أَبِي سَبْرَةَ أَنَّهُ كَانَ فِي رَمَضَانَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ بِثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَهْرًا وَقِيلَ كَانَ فِي رَجَب حَكَاهُ بنعَبْدِ الْبَرِّ وَجَزَمَ بِهِ النَّوَوِيُّ فِي الرَّوْضَةِ وَقيل قبل الْهِجْرَة بِثَلَاث سِنِين حَكَاهُ بن الْأَثِيرِ وَحَكَى عِيَاضٌ وَتَبِعَهُ الْقُرْطُبِيُّ وَالنَّوَوِيُّ عَنِالزُّهْرِيِّ أَنَّهُ كَانَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ بِخَمْسِ سِنِينَ وَرَجَّحَهُ عِيَاضٌ وَمَنْ تَبِعَهُ. ‘মিরাজের সময় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারও মতে এটা নবুওয়াতের পূর্বেই হয়েছে। কিন্তু এটা অত্যন্ত দুর্বল ও বিচ্ছিন্নমত। তবে স্বপ্নে দেখা উদ্দেশ্য নিলে ঠিক আছে; যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে। আর অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে এটা নবুওয়াত প্রাপ্তির পরে হয়েছে। এরপর তারা আবার মতভেদ করেছেন। কারও মতে এটা হিজরতের এক বছর পূর্বেহয়েছে। ইমাম ইবনে সাদ রহ.-সহ প্রমূখ এমনই বলেছেন। ইমাম নববি রহ. এটাকেই চূড়ান্ত বলেছেন। আর ইমাম ইবনে হাজাম রহ. তো অতিরঞ্জিত করে এ মতের ব্যাপারে ইজমার দাবি করেছেন। কিন্তু ইজমার দাবি পুরোই ভুল।কেননা, এ ব্যাপারে দশেরও অধিক মত পাওয়া যায়, যার কয়েকটি ইমাম ইবনুল জাওজি রহ. বর্ণনা করেছেন যে, হিজরতের আট মাস পূর্বে মিরাজ সংঘটিত হয়েছে এবং কারও মতে ছয় মাস পূর্বে। এ দ্বিতীয় মতটি বর্ণনা করেছেনইমাম আবুর রবি বিন সালিম রহ.। আর এর পূর্বের উক্তির দাবিকৃত মতটি বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবনে হাজাম রহ.।কেননা, তিনি বলেছেন, মিরাজ সংঘটিত হয়েছে নবুওয়াতের দ্বাদশ বছরের রজব মাসে। কারও মতে এগারো মাসআগে। ইমাম ইবরাহিম হারবি রহ. এটাকে চূড়ান্ত মত বলেছেন। কেননা, তিনি বলেছেন, মিরাজ সংঘটিত হয়েছেহিজরতে এক বছর পূর্বে রবিউল আখিরে। ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. বিরচিত “আস-সিরাহ” এর ব্যাখ্যাগ্রন্থেইমাম ইবনে মুনির রহ. এটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। কারও মতে হিজরতের এক বছর দুমাস পূর্বে। ইমাম ইবনেআব্দুল বার রহ. এ মতটি বর্ণনা করেছেন। কারও মতে হিজরতের এক বছর তিন মাস পূর্বে। ইমাম ইবনে ফারিসরহ. এ মতটি বর্ণনা করেছেন। কারও মতে হিজরতের এক বছর পাঁচ মাস পূর্বে। ইমাম সুদ্দি রহ. এ মতটি বর্ণনাকরেছেন। তার সূত্রে ইমাম তাবারি রহ. ও ইমাম বাইহাকি রহ. বর্ণনাটি রিওয়ায়াত (বর্ণনা) করেছেন। এ মতানুসারেমিরাজ সংঘটিত হয়েছে রমজানে অথবা রবিউল আওয়াল ও রমজানের ভগ্নাংশ দুটি বাদ দিলে শাওয়ালে। ইমামওয়াকিদি রহ. এ মতটিকে চূড়ান্ত বলেছেন। এ মতের সাথে মিলে যায় যা ইমাম কুরতুবি রহ. উল্লেখ করেছেন এবংইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. বর্ণনা করেছেন যে, হিজরতের আঠারো মাস পূর্বে মিরাজ সংঘটিত হয়েছে। ইমামইবনে সাদ রহ.-এর বর্ণনায় ইবনে আবু সাবরা রহ. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মিরাজ হিজরতের আঠারো মাস পূর্বেরমজান মাসে সংঘটিত হয়েছে। কারও মতে মিরাজ রজব মাসে সংঘটিত হয়েছে, যা ইমাম ইবনে আব্দুল বার. বর্ণনাকরেছেন এবং ইমাম নববি রহ. তাঁর “রাওজাতুত তালিবিন”-এ চূড়ান্ত মত বলে অভিহিত করেছেন। কারও মতে, হিজরতে তিন বছর পূর্বে মিরাজ সংঘটিত হয়েছে, যা ইমাম ইবনে আসির রহ. উল্লেখ করেছেন। কাজি ইয়াজ রহ. ওতাঁর অনুকরণে ইমাম কুরতুবি রহ. ও ইমাম নববি রহ. ইমাম জুহরি রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, এটা হিজরতের পাঁচবছর পূর্বে সংঘটিত হয়েছে। কাজি ইয়াজ রহ. ও তাঁর অনুসারীরা এটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।’ (ফাতহুল বারি : ৭/২০৩, প্রকাশনী : দারুল মারিফা, বৈরুত) ইমাম ইবনুল জাওজি রহ. বলেন : وَاتَّفَقَ الْعُلَمَاءُ عَلَى أَنَّ هَذَا الْمِعْرَاجَ كَانَ بِمَكَّةَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ، وَاخْتَلَفُوا فِي الْمُدَّةِ الَّتِي كَانَتْ بَيْنَهُمَا عَلَى أَرْبَعَةِ أَقْوَالٍ: أَحَدُهَا: سَنَةٌقَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ. وَالثَّانِي: سِتَّةُ أَشْهُرٍ. قَالَهُ السُّدِّيُّ. وَالثَّالِثُ: ثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَهْرًا. قَالَهُ الْوَاقِدِيُّ. ذَكَرَ هَذِهِ الأَقْوَالَ عَنْهُمْ أَبُو حَفْصِبْنُ شَاهِينَ. وَالرَّابِعُ: ثَمَانِيَةُ أَشْهُرٍ. فَأَمَّا الْهِجْرَةُ فَإِنَّهَا كَانَتْ فِي يَوْمِ الاثْنَيْنِ ثَانِي عَشَرَ رَبِيعِ الأَوَّلِ، أَعْنِي الْيَوْمَ الَّذِي قَدِمَ فِيهِرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ. فَعَلَى الْقَوْلِ الأَوَّلِ يَكُونُ الْمِعْرَاجُ فِي رَبِيعٍ الأَوَّلِ. وَعَلَى الثَّانِي وَالثَّالِثِ يَكُونُ فِي رَمَضَانَ. وَعَلَى الرَّابِعِ يَكُونُ فِي رجب. وقد ذكر محمد بن سعد عن الْوَاقِدِيُّ عَنْ أَشْيَاخٍ لَهُ قَالُوا: كَانَ الْمِعْرَاجُ لَيْلَةَ السَّبْتِ لِسَبْعَ عَشْرَةَ لَيْلَةًخَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ بِثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَهْرًا. ‘উলামায়ে কিরামের এ ব্যাপারে ঐকমত্য আছে যে, এ মিরাজ হিজরতের পূর্বে মক্কায় থাকাকালীন সংঘটিতহয়েছিল। কিন্তু হিজরত ও মিরাজের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যাপারে তাদের চারটি মত রয়েছে। এক. এক বছর। এটা ইবনেআব্বাস রা.-এর মত। দুই. ছয় মাস। এটা সুদ্দি রহ.-এর মত। তিন. আঠারো মাস। এটা ইমাম ওয়াকিদি রহ.-এরমত। তাঁদের থেকে এ মতগুলো ইমাম আবু হাফস শাহিন রহ. উল্লেখ করেছেন। চার. আট মাস। এদিকে হিজরতহয়েছে রবিউল আউয়ালের দ্বাদশ দিবসে সোমবার। অর্থাৎ এদিনেই তিনি মদিনায় পৌঁছেন। সুতরাং প্রথমমতানুসারে মিরাজ রবিউল আওয়াল মাসে হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মতানুসারে রমজান মাসে হয়েছে। আর চতুর্থমতানুসারে রজব মাসে হয়েছে। ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাদ রহ. ইমাম ওয়াকিদি রহ. সূত্রে তাঁর উস্তাদদের থেকে বর্ণনাকরেন যে, তাঁরা বলেছেন, হিজরতের আঠারো মাস পূর্বে রমজানের সতেরো তারিখে রোববার রাতে মিরাজ সংঘটিতহয়।’ (আত-তাবসিরা, ইবনুল জাওজি : ২/৩৩-৩৪, প্রকাশনী : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি রহ. বলেন : وقد روي: أنه في شهر رجب حوادث عظيمة ولم يصح شيء من ذلك فروي: أن النبي صلى الله عليه وسلم ولد في أول ليلة منهوأنه بعث في السابع والعشرين منه وقيل: في الخامس والعشرين ولا يصح شيء من ذلك وروى بإسناد لا يصح عن القاسمبن محمد: أن الإسراء بالنبي صلى الله عليه وسلم كان في سابع وعشرين من رجب وانكر ذلك إبراهيم الحربي وغيره ‘বর্ণিত আছে যে, রজব মাসে অনেক বড় বড় ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু এর একটিও বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নয়।যেমন বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সা. এ মাসের প্রথম রাতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এ মাসের সাতাশ তারিখেতিনি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হন, কারও মতে পঁচিশ তারিখে। এর কোনোটিই বিশুদ্ধভাবে সাব্যস্ত নয়। অনুরূপ অশুদ্ধ সূত্রেকাসিম বিন মুহাম্মাদ রহ. থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সা.-এর মিরাজ রজবের সাতাশ তারিখে হয়েছে। ইমাম ইবরাহিম রহ.-সহ প্রমূখ এটা খণ্ডন করেছেন।’ (লাতায়িফুল মাআরিফ : ১২১, প্রকাশনী : দারু ইবনি হাজাম) মূলত এগুলোর কোনোটির পক্ষেই প্রমাণযোগ্য কোনো বর্ণনা বা হাদিস পাওয়া যায় না। তাই নির্দিষ্টভাবে ২৭শে রজবকে শবে মিরাজ মনে করার কোনো অবকাশ নেই।  ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. বলেন : هَذَا إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ تُعْرَفُ عَيْنُهَا، فَكَيْفَ وَلَمْ يَقُمْ دَلِيلٌ مَعْلُومٌ لَا عَلَى شَهْرِهَا وَلَا عَلَى عَشْرِهَا وَلَا عَلَى عَيْنِهَا، بَلِ النُّقُولُ فِيذَلِكَ مُنْقَطِعَةٌ مُخْتَلِفَةٌ لَيْسَ فِيهَا مَا يُقْطَعُ بِهِ، ‘এটা তখনই ঠিক হতো, যখন মিরাজের রাত নির্দিষ্টভাবে জানা থাকত। অথচ এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত কোনো প্রমাণনেই, না এর মাসের ব্যাপারে, না এর দশকের ব্যাপারে আর না নির্দিষ্ট কোনো দিনের ব্যাপারে; বরং এ ব্যাপারেসকল বর্ণনাই সূত্রবিচ্ছিন্ন ও মতানৈক্যপূর্ণ, যার কোনোটিই সুনিশ্চিত নয়।’ (জাদুল মাআদ : ১/৫৮, প্রকাশনী : মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) আল্লামা ছফিউর রহমান মুবারকপূরী (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আর-রাহিকুল মাখতূম’ বইয়ে ৬ টি মত উল্লেখ করেছেন।  সেগুলো হলো: • যে বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়্যাত লাভ করেন, সেবছর। এটা ইমাম তাবরানির(রাহিমাহুল্লাহ) মত। • নবুওয়্যাতের ৫ বছর পূর্বে। এটা ইমাম আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) এবং ইমাম কুরতুবির (রাহিমাহুল্লাহ) মত। • হিজরতের ১৬ মাস পূর্বে। রামাদ্বান মাসে।… Read More »

রমাযানের শুভেচ্ছা ও কার্ড বিনিময়ের দৃষ্টিভঙ্গি

বর্তমানে রমাযানের শুভেচ্ছা বিনিময় ও ইনবক্সে কার্ড-ভিডিও উপহার প্রদান এক ব্যাপক রেওয়াজ-রুসূমে পরিণত হয়েছে ৷সব শ্রেণী-পেশার মানুষ একে অপরকে বিভিন্ন ধরণের বাহারী রঙের কার্ড পাঠিয়ে থাকে ৷ রমাযান শুরুর কিছু দিন আগ থেকেই শুরু হয় প্রতিযোগীতার সাথে এই শুভেচ্ছা বিনিময় ৷ নবীজী স. রমাযানের সুসংবাদ ও ফযীলত-গুরুত্ব শুনাতেন কিন্তু শুভেচ্ছা বিনিময় কখনো করেননি; সাহাবায়ে কেরাম,… Read More »

সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দোয়া

প্রশ্ন: সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দোয়া কি? জানিয়ে উপকৃত করবেন। উত্তর: وبالله سبحانه التوفيق ১. হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সিজদার মাঝে বলতেন-اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْঅর্থ : হে আল্লাহ আপনি আমাকে মাফ করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে শান্তি দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান… Read More »

জীবন যাপনে সমস্যার মূল কারণ ও প্রতিকার

বর্তমানে মানুষের সাথে কথা বলে ও মিশে যা অভিজ্ঞতালব্ধ হয়েছে, তা হলো : মানুষ দুইটা দিক থেকে সমস্যায় জর্জরিত ; একটা আর্থিক দিক থেকে ;আরেকটা হলো মানসিক দিক থেকে । • আর্থিক দিক সমস্যার মূলে রয়েছে :তারা শরিয়া নীতি কে ফলো করছে না ।যেমন শরীয়াহ আয়-ব্যয়ের নীতিমালা রেখেছে।বিশেষতঃ খরচের খাতের নীতিমালা আছে ;সেগুলো কে খেয়াল… Read More »

আত্মহত্যাকারীর জন্য মাগফেরাতের দুয়া করা, তার জানাজা পরা যাবে, সে কি কখনো জান্নাতে যাবে ?

প্রশ্ন:Subject: আত্মহত্যাক) আত্মহত্যাকারীর জন্য কি মাগফেরাতের দুয়া করা যাবে ? খ) তার জানাজা পরা যাবে ? গ) সে কি কখনো জান্নাতে যাবে ? —- মোঃ সুমন বাপ্পি উত্তর: وبالله سبحانه التوفيق ক) আত্মহত্যাকারীর জন্য মাগফেরাতের দুয়া করা: আত্মহত্যা অনেক বড় গুনাহ। শরীয়তের দৃষ্টিতে আত্মহত্যাকারী ফাসেক; তবে সে কাফের নয়। তাই আত্মহত্যাকারীর জন্য মাগফেরাতের দুয়া ও… Read More »